বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং কি?

বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং কি? 

বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলে আমরা বিটকয়েন মাইনিং সম্পর্কে আলোচনা করবো। বিটকয়েনের সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। বিটকয়েন হচ্ছে এক ধরনের কারেন্সি (currency)। আমাদের দেশে যেমন কারেন্সি রয়েছে, ঠিক তেমনই বিটকয়েন ও এক ধরনের কারেন্সি।

বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং
বিটকয়েন মাইনিং

বিটকয়েনকে সাধারণত ক্রিপ্টো কারেন্সি বা অনেক সময় এটিকে ক্রিপ্টো কিয়েন ও বলা হয়ে থাকে।


আপনি চাইলেও বিটকয়েন ধরতে বা ছুঁতে পারবেন না। কারণ এটির কোনো বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই। Bitcoin হচ্ছে একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা (Virtual Currency)। এটিকে পেয়ার টু পেয়ার মুদ্রা ও বলা হয়ে থাকে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান দ্বারা এটি পরিচালনা করা হয় না।


এটি একটি Digital Currency এবং এটি computer নির্ভর। ২০০৮ সালের দিকে বিটকয়েনের প্রচলন শুরু হয়।


Physical কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও এই করেন্সির বর্তমান মূল্য অনেক। বর্তমান সময়ে bitcoin অনেক বেশি জনপ্রিয় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


Bitcoin ইনকাম করার প্রক্রিয়াকে মূলত বিটকয়েন মাইনিং হিসেবে বলা হয়। তবে বিটকয়েন মাইনিং সম্পর্কে জানার আগে বিটকয়েন মূলত কি সেটি আমাদের জানা দরকার।

বিটকয়েন কি? 


Bitcoin হচ্ছে একটি ডিজিটাল অনলাইন কারেন্সি। এটির একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটির কোনো Physical অস্তিত্ব নেই, অর্থাৎ এটিকে আপনি চাইলেও ধরা ছোঁয়া করতে পারবেন না। 


এটি এমন একটি মুদ্রা, যেটিকে শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে কেনা বেচা করা সম্ভব।


তবে অনেকেই চিন্তা করতে পারেন যে ১ বিটকয়েনের সমান বাংলাদেশি কত টাকা?


এটি উত্তর সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে পারে। তবে আমি যে সময়ে এই আর্টিকেল লিখেছি তখন Bitcoin এর মূল্য ছিল;


"১ বিটকয়েন সমান 2,833,941.55 বাংলাদেশি টাকা"


সময়ের সাথে সাথে বিটকয়েনের মান পরিবর্তন হতে পারে।


বিটকয়েনের সম্পর্কে আমরা বেসিক একটা ধারণা পেয়ে গেলাম। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে Bitcoin আয় করা যায়।


Bitcoin আয়ের একটি ভালো উপায় হচ্ছে 'বিটকয়েন মাইনিং', Bitcoin মাইনিং করতে হলে আপনার এটি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা লাগবে।


শুরুতে, Bitcoin মাইনিং কাকে বলে এই ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।


বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং কি?


অনলাইন পেমেন্ট অথবা কোনো ট্রানজেকশন এর ক্ষেত্রে আমরা বিটকয়েনের ব্যাবহার করি। এই ধরনের বিটকয়েনের যখন Online ট্রানজেকশন হয়, তখন ট্রানজেকশন গুলোকে Verify করতে হয়।


আর এক্ষেত্রে যারা এই Bitcoin Transaction গুলোকে ভেরিফাই করে তাদের বলা হয়ে থাকে Miners.


আর Bitcoin Transaction Verify এর এই Process কে বলা হয় বিটকয়েন মাইনিং


বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং


সোজা ভাবে বললে, বিটকয়েন মাইনিং হচ্ছে বিটকয়েনের লেনদেনগুলো প্রসেস করা বা এপ্রভ করা।


যারা এই ধরনের মাইনিং এর কাজ করে থাকেন তাদের কাছে অবশ্যই অত্যন্ত ভালো Configuration এর কম্পিউটার থাকতে হবে। ভালো কম্পিউটার ছাড়া কোনো সাধারণ কম্পিউটার দ্বারা এই কাজ কখনোই সম্ভব নয়।


এই সকল Miners রা ট্রানজেকশন ভেরিফাই এর ক্ষেত্রে লক্ষ রাখেন যে ট্রানজেকশন ভালোমতো ভেরিফাই হয়েছে কিনা অথবা কোনো জালি প্রক্রিয়া ব্যাবহার করা হয়েছে কিনা।


এই ধরনের বিটকয়েনের ট্রানজেকশন ভেরিফিকেশন  এর কাজ এর জন্য বিটকয়েন মাইনার দের কিছু Bitcoin Rewards হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে।


কিভাবে বিটকয়েন মাইনিং করা যায়?


বন্ধুরা আপনাদের আগেই বলেছি যে Bitcoin Mining মানে হচ্ছে Bitcoin এর লেনদেন process করা। অর্থাৎ দুই প্রান্ত থেকে কিংবা দুটি কম্পিউটার থেকে Bitcoin লেনদেন হয়।


লেনদেনটি process করার কাজই হচ্ছে Mining, এবং এই লেনদেন প্রসেস এর কাজ করে থাকে অন্য একটি কম্পিউটার।


তাহলে প্রশ্ন আসে যে, শুধুমাত্র লেনদেনই যখন প্রসেস করা হচ্ছে তাহলে কেনো এটিকে Bitcoin Mining বলা হচ্ছে?


এর কারণ হচ্ছে একটি Bitcoin লেনদেন প্রসেস করা সম্পূর্ণ হলে সাথে সাথে নতুন একটি বিটকয়েন তৈরি হয়। আর তাই আপনি যখনই কোনো নতুন লেনদেন process করছেন তখনই আপনি নতুন বিটকয়েন তৈরিতে সাহায্য করছেন। আর এই কাজটি করার বিনিময়ে আপনি নতুন তৈরি হওয়া Bitcoin থেকে কিছু Reward হিসেবে পেয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে এটিকে Bitcoin Mining বলা হয়।


তবে যদি আপনি ভেবে থাকেন এই Processing এর কাজটি অনেকটা সোজা, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। যেহেতু কম্পিউটার রান করানোর দ্বারা এই কাজটি সম্পন্ন হয়, তাই আপনার কাছে এটি মনে হতে পারে।


কিন্তু এটি একদমই নয়। একটি Bitcoin Transaction Process এর জন্য যে Computer বা Hardware এর প্রয়োজন সেটিতে অবশ্যই ভালো Processing Power থাকতে হবে।


এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য একটি কম্পিউটারকে অনেক জটিল Algorithm এর মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয় এবং অনেক কঠিন সমীকরণ সমস্যা Solve করতে হয়। আর এর জন্য সাধারণ কোনো pc দ্বারা এটি সম্ভব নয়।


বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং কি? 

এই লেনদেন গুলো প্রসেস এর জন্য আপনার প্রয়োজন যথেষ্ট শক্তিশালী কম্পিউটার। তবে বর্তমানে নানান কোম্পানিগুলো এসব কাজের জন্য আলাদাভাবে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার বানাচ্ছে যার মাধ্যমে আপনি কোনো কাজ না করে সেগুলো দ্বারা এই mining এর কাজ করতে পারেন।


তবে এইখানে চলে আসবে আরো একটি বিষয়, সেটি হচ্ছে "Electricity"


Mining এর কাজের জন্য যেসব High Configuration এর হার্ডওয়্যার প্রয়োজন সেগুলো দিয়ে আপনি অবশ্যই ভালোমতো কাজ করতে পারবেন। কিন্তু একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, এসব কাজের গুলোর আপনার প্রয়োজন হবে প্রচুর ইলেক্ট্রিসিটি।


যখন আপনি এই মাইনিং এর কাজ করবেন, তখন আপনার কম্পিউটারের অনেক Process Power এর প্রয়োজন হবে,আপনার  processor , CPU, GPU তখন প্রায় ১০০% কার্যক্ষমতাতে কাজ করতে থাকবে। যার ফলে আপনার Hardware এর আগের তুলনায় অধিক power এর প্রয়োজন হবে। যার জন্য প্রয়োজন ভালো Electricity.


আর এজন্য বিদ্যুৎ বিল এর বিষয়টি আপনার জন্য অনেকটা বড় বিষয় হয়ে দাড়ায়।


উদাহরণ স্বরূপ, ধরুন Bitcoin Mining এর জন্য আপনার একটি ভালো সেটআপ রয়েছে, যেখানে আপনি প্রতিদিন Mining এর কাজ করেন।


এই মাইনিং এর কাজ করে আপনি প্রতিদিন ইনকাম করেন 5 USD dollar বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৫০ টাকার মতো। এক্ষেত্রে ধরুন আপনি প্রতি মাসে এই কাজটি করে ইনকাম করলেন ১৩০০০ টাকা। যেখানে আপনার বিদ্যুৎ এর বিল এসে দাঁড়িয়েছে ১২০০০ টাকার মতো।


তাহলে এখন আপনি নিজেই লক্ষ করুন যে আপনার লাভ কোথায় হলো। বাংলাদেশের মতো দেশে এই mining এর কাজ করার প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়ায় এটি।


অর্থাৎ এই কাজের ক্ষেত্রে এক প্রকার Risk নিয়ে কাজ করার দরকার হয়। কারণ যদি আপনি mining এর কাজ করে ভালো পরিমাণে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনার অনেক কম্পিউটার এর দরকার হবে। আর প্রত্যেক কম্পিউটার অত্যন্ত ভালো হতে হবে। তাহলে এই সেট আপ এর জন্যই আপনার শুরুতে অনেকগুলো টাকা ইনভেস্ট করার প্রয়োজন হয়। যেটি অনেক ক্ষেত্রে রিস্ক এর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।


কিন্তু সবক্ষেত্রে যে ক্ষতির সম্ভবনা থাকে এমনটা কিন্তু নয়। আপনি যে জায়গায় বা দেশে থাকছেন যদি সেখানে বিদ্যুৎ এর খরচ হিসেবে আপনার লাভ হয় তাহলে আপনি সেখানে ভালো সেটআপ করে মাইনিং এর কাজ করতে পারেন।


তবে বিটকয়েন মাইনিং এর কাজ করার আগে আপনার উচিত হবে এর বিদ্যুৎ বিল সহ অন্যান্য খরচ কত হতে পারে, সে অনুযায়ী আপনার লাভ কতটা সেটি নিয়ে আগে চিন্তা করা। কিন্তু যদি আপনি এসব বিষয় না ভেবে কাজ শুরু করে দিতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার ক্ষতির সম্ভবনা থাকছে।


তবে এই মাইনিং প্রসেস এর কাজটি খুব একটা কঠিন নয়, শুধু যে কম্পিউটারে মাইনিং এর কাজ করবেন সেটিতে একটি Trusted মাইনিং প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে হবে, যেমন; NICEHASH, এরপর আপনাকে প্রোগ্রামটি ইনস্টল করতে হবে। এখন আপনার প্রোগ্রামটি রান করানোর মাধ্যমেই আপনি মাইনিং এর কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন।


আর বিভিন্ন ধরনের টপিক নিয়ে আর্টিকেলটি পড়তে চাইলে নিচের লিংকগুলো থেকে পড়ে নিতে পারেন, 

আজকে আমরা কি জানলাম?

আজকে আমরা বিটকয়েন(Bitcoin) মাইনিং কি? এবং কিভাবে করা যায় এই বিষয় সম্পর্কে জানলাম। যদি কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা আপনার সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো।

আমাদের সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post